৯ই আশ্বিন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, সন্ধ্যা ৭:১৬

পানিতে ভেসে গেল লাকীর শেষ সম্বল

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন কাশিপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের উত্তর নরসিংপুর গ্রামের বাসিন্দা লাকী আক্তার। স্বামী রতন মিয়া মারা গেছেন প্রায় দুই বছর আগে। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বাস করতেন আধা পাকা এক তলা বাড়িতে। বাড়িটিই ছিল তাদের শেষ  সম্বল। ছেলে গার্মেন্টেসে চাকরী করে যা ইনকাম করেন তা দিয়েই চলে তাদের সংসার। কিন্তু ধলেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় লাকী আক্তারের একমাত্র সম্বল সেই বাড়িটি। যে কারণে নি:স্ব হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে হঠাত করেই পানির স্রোত বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ের পানির স্রোতের আওয়াজ পাই, কিছু বুঝে উঠার আগেই বন্যার পানির স্রোতের চোটেই বিল্ডিংয়ের নীচে যে মাটি ছিলো সব তলিয়ে গিয়ে বিল্ডিং ডাইব্বা গিয়া ধসে যায়। আমরা কিচ্ছু নিয়া বের হতে পারি নাই। ছেলে, মেয়ে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যাই। আশেপাশের ভাইয়েরা সহ সকলে মিলে বন্যার পানির স্রোত আটকানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু, পানির এতটা স্রোত ছিল যে কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। সব মাছ ভেসে গেছে। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছি। বন্যার পানিতে ভেসে চলে গেল আমার জীবিকার শেষ অবলম্বন।’

একই গ্রামের আরও অনেকে প্রাইম নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ভাই আমাদের বাড়িঘরেও হাটু-কোমর সমান পানি। আমাদের বাড়ি-ঘর গুলোও দেখে যান। কতো কষ্টে আমরা আছি। একদম পথে বসে যাচ্ছি।’ স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, ‘ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে একটি রাস্তা ভেঙ্গে পানি এলাকায় প্রবেশ করেছে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এসকল পরিবারের সদস্যরা চরম ঝুকি ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

বন্যা দুর্গত এলাকাগুলো পরিদর্শনে গিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা গতকাল খবর পেয়েছি বুড়িগঙ্গার পানি বৃদ্ধি পেয়ে এনায়েতনগরের ধর্মগঞ্জের কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করে প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।

এছাড়া গতকাল রাতে ধলেশ্বরীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বক্তাবলী, কাশিপুর ও আলীরটেক ইউনিয়নে পানি ঢুকে পড়ে। বেশ কিছু আধা-পাকা ঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কাশিপুরের ৩ নং ওয়ার্ডে একটি আধা-পাকা ঘর ধসে পড়ার খবর পেয়ে এখানে এসেছি। তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাচ্ছি।

বন্যা দুর্গতদের থাকার জন্য ইতিমধ্যেই বক্তাবলীতে আমরা একটি স্কুল খুলে দিয়েছি এবং সেখানে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। একইসাথে এই মানুষগুলোকে যতটুকু সাহায্য-সহযোগীতার করার দরকার ততটুকু করা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে বন্যার পানিতে ধসে পড়া ভবনসহ বন্যা দুর্গত এলাকাগুলো পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী, কাশিপুর ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শামীম আহম্মেদ।

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.