
করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের মনে যে ভয়াবহতা ছিলো দিন দিন অনেকাংশে তা কেটে যাচ্ছে। তবে করোনার অজুহাতে নারায়ণগঞ্জে ‘ওয়ান টাইম’ প্লাস্টিক চায়ের কাপ ব্যবহার অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে। ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। যেখানে-সেখানে পড়ে থাকা অপচনশীল প্লাষ্টিকের তৈরি এসব কাপের জন্য বেড়েছে জলাবদ্ধতা। ঝুঁকি বেড়েছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের। প্লাস্টিকের এ কাপের ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন পরিবেশবাদীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীতে অসংখ্য ছোট-বড় চায়ের দোকান আছে, যা অনেকটা গুণেও শেষ করা যাবে না। এসব দোকানে প্রতিদিন লাখ লাখ কাপ চা বিক্রি হয়। যার ৮০ শতাংশ চা প্লাস্টিকের ‘ওয়ান টাইম’ কাপে দেওয়া হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে কথা হয় চায়ের দোকানি শিবু, বাদশাহ, আজিম, রহিমের সঙ্গে। তাদের অভিযোগ, করোনা ভাইরাসের কারণে ক্রেতারা একই কাপে চা খেতে চায় না। গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে দিলে খায় না।
তাই ক্রেতার চাহিদা কারণে এ কাপে চা দিতে বাধ্য হন তারা। ব্যবহারের পর ওই কাপ যেখানে-সেখানে ফেলার বিষয় জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা নির্দিষ্ট একটি বালতি বা ময়লার ঝুড়িতে এসব কাপ জমিয়ে রাখি। কিন্তু তারপর কোথায় ফেলা হয় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারে নি।
দিগু বাবুর বাজারের এক প্লাষ্টিক ব্যবসায়ী জানান, প্রায় ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ওয়ান টাইম’ প্লাস্টিক সামগ্রী বিক্রি করে। প্রতিদিন হাজার হাজার ‘ওয়ান টাইম’ প্লাস্টিকের চায়ের কাপ বিক্রি হয়। প্রকারভেদে প্রতি পিস ৭০ পয়সা থেকে এক টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করা হয়।
পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা জানান, প্লাস্টিক মানবদেহের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। অবিলম্বে এসব অপচনশীল প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তারা আরো বলেন, প্লাস্টিক ব্যবহাররোধে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
প্লাস্টিকের তৈরি অপচনশীল পণ্যের ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম প্রাইম নারায়ণগঞ্জকে বলেন, প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য ব্যবহারে কিছু মানদন্ড ও নীতিমালা আছে। এগুলো মেনে কেউ যদি মান সম্পন্ন প্লাষিটেক কাপে চা পান করে বা চা বিক্রি করে তাহলে তেমন কোনো সমস্যা নেই। যদি এ মান বজায় রাখা না যায় তাহলে হার্ট, কিডনি, লিভারসহ ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
এসব পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয় পলিমার নামক ক্ষতিকর কেমিক্যাল। যা মানবদেহে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখা দেয়। তবে চায়ের দোকানগুলোতে এ মান তারা বজায় রাখতে পারবে কিনা তা আমার জানা নেই, আর তাছাড়া তারা কেনই বা প্লাষ্টিকের কাপে চা বিক্রি করে তাও আমার বোধগম্য নয়। প্লাস্টিকের পরিবর্তে মাটির অথবা কাচের তৈরি পণ্য ব্যবহার করা উত্তম।
No posts found.