৯ই আশ্বিন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, রাত ৩:০৯

নানা কৌশলে মাঠে নামার চেষ্টায় জামায়াত

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

প্রাইম নারায়ণগঞ্জ:

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়ায় অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় দলটি। আদালতের নিষেধাজ্ঞায় দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ব্যবহার করতে না পারায় আরও বেশী পিছিয়ে পড়ে দলটি। দলটির পতনের শুরুর দিকে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে সহিংস আন্দোলনের কারণে কয়েকহাজার নেতাকর্মী নাশকতার মামলায় জড়িয়ে যায়। এতে নারায়ণগঞ্জে প্রায় বন্ধ হয়ে যায় দলটির দলীয় কর্মকাণ্ড। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাধা-বিপত্তির মধ্যেই নানা কৌশলে সক্রিয় হয়ে পুনরায় মাঠে নামার চেষ্টা করছে দলটি।

অনেকটা গোপন গোপনে চলছে দলটির কর্মকাণ্ড। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা দণ্ডিত হওয়ায় দলীয় নীতি ও রাজনীতির কৌশল নিয়ে মতভেদের কারণে এরই মধ্যে দলটি থেকে বেশ কিছু নেতাকর্মী বের হয়ে গেছেন। তবে সমর্থক ও অর্থদাতাদের বেশির ভাগই রয়েছে মূল সংগঠনের সঙ্গে। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লোকজন বরাবরই এ দাবি করে যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠছেন বলে জানা যায়।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিচ্ছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীরা। এছাড়া নিজ দলের নেতাদের বাড়িতে মাঝে মাঝেই চলে বৈঠক। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছেন হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ এবং বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে। কোথাও কোথাও মসজিদের আশেপাশে নেতাকর্মীরা বৈঠক করেন, ফজরের নামাজের আগে কিংবা এশার নামাজের পরে।

জামায়াতের একটি সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের আপাতত তিনভাবে নিজেদের রক্ষা করে চলার পরামর্শ দিয়েছে দলটি। এসব হচ্ছে আওয়ামী লীগে যোগদান, আইনজীবী পেশায় নিয়োজিত হওয়া এবং গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে টিকে থাকা। পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। দলীয় কর্মকাণ্ড সচল রাখতে নেতাকর্মীদের নিয়মিত বৈঠক করার স্থান হিসেবে মসজিদের আশেপাশে, তাদের নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বেছে নিতে বলা হয়েছে বলেও জানা যায়।

সূত্র জানায়, নগরের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান। একাধিক সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকা পরিবর্তন করে বর্তমানে সাংগঠনিক কাজ করছেন। আগে যাঁরা এক এলাকার নেতৃত্বে ছিলেন, এখন তাঁরা অন্য এলাকায় কাজ করছেন। এভাবে নেতাদের কর্ম এলাকা বদল করে দেওয়া হয়েছে। মূল জামায়াতের চেয়ে এখন বেশি সক্রিয় মহিলা জামায়াত। ছাত্রশিবিরের যেসব কর্মী কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগ নিজেদের নামে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে কোচিং ব্যবসা করছে।

আওয়ামীলীগের প্রবীণ রাজনীতিবীদদের মতে, ‘জামায়াত রাজনৈতিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে বা রাজনীতি ছেড়ে ঘরে বসে রয়েছে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তারা কৌশল বদল করে কাজ করছে। তারা যেকোনো সময়ে ফের সহিংসরূপে যাতে না ফিরতে পারে সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.